মঙ্গলে যেতে চায় প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ
মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও হাজার হাজার মানুষ বসতি গড়তে মঙ্গল গ্রহে যেতে
চায়। যেখানে লোহিত এই গ্রহে যেতে পাড়ি দিতে হবে চার কোটি মাইল। গ্রহটিতে
পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় সাত মাস। মেইল অনলাইন জানিয়েছে, গ্রহটির বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড ৯৫ শতাংশ। তাপমাত্রা মাইনাস
১৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত। কিন্তু আবেদনকারীরা এমন পরিবেশে কীভাবে, কত দিন বাঁচা যাবে, তার
ব্যাখ্যা খুঁজছেন না। গ্রহটিতে যাবার সময় বিভিন্ন স্তরে মহাকর্ষ বলের
পরিবর্তনের কারণে শরীরের ওপর যে ধকল যাবে, তাও কি মোকাবেলা করা সম্ভব? এ
প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন। যারা যাবেন, তাদের সেখান থেকে আর ফিরিয়ে আনা হবে না- এটি জানানো হয়েছে
আগেই। তারপরও হল্যান্ডের কোম্পানি মার্স ওয়ানের প্রকল্পে নির্বাচিত হয়ে
মঙ্গলে যেতে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে আবেদন পড়েছে
৭৮ হাজারের বেশি। উদ্যোক্তাদের ধারণা, সর্বশেষ তারিখ আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আবেদন পড়বে
পাঁচ লাখের মতো। তাদের মধ্য থেকে রিয়েলিটি টিভি শোর মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে
বাছাই করা হবে চারজনকে। ২০২২ সালে তাদের পাঠানো হবে মঙ্গলে। ২০২৩ সালে তারা সেখানে পৌঁছে শুরু করবেন কলোনি গড়ে তোলার কাজ। এমন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে পাঠানো হবে মোট ২০ জনকে। মার্স ওয়ান কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্যাস ল্যান্সডরপ জানান, ১৮ বছরের
বেশি বয়সী যে কেউ আবেদন করতে পারেন ভিডিও যোগাযোগের মাধ্যমে। মঙ্গল গ্রহে যেতে আবেদনের ফি নির্ধারণ হচ্ছে প্রার্থীর দেশের অর্থনৈতিক
অবস্থা বিবেচনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের আবেদনকারীর আবেদন ফি ৩৮ ডলার। আবেদন ফি
থেকে পাওয়া অর্থ ব্যয় করা হবে বাছাইয়ের জন্য রিয়েলিটি শো আয়োজনে। এই
শো থেকেও আসবে অর্থ, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগানো হবে। দর্শকের ভোটসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় প্রথমে বেছে নেওয়া হবে ২৪ জনকে। তাদের প্রশিক্ষণ চলবে আট বছর। ভাগ্যবান চারজনকে তাদের মধ্য থেকেই চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হবে। তারাই যেতে পারবেন মঙ্গল গ্রহে।

No comments:
Post a Comment